পরিবর্তনের দিনলিপি — ৫২তম দিন | ২৯ জুন ২০২৬

বিধানসভায় ঐতিহাসিক দিন: Public Safety Bill পাস, UCC-র জন্য বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই কমিটি, বাজেট বাস্তবায়নে নবান্নের নতুন রোডম্যাপ

Table of Contents

⚡ আজকের প্রধান খবর

২৯ জুন ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গত এক সপ্তাহ ধরে বাজেটকে কেন্দ্র করে চলা আলোচনা, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির পর আজ বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দিনের সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026 বিধানসভায় পাস হওয়া। দীর্ঘ বিতর্ক, একাধিক সংশোধনী প্রস্তাব এবং বিরোধীদের প্রবল আপত্তির মধ্যেও সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাশ করায়।

অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরে যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলছিল, আজ সেই বিষয়ে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সরাসরি বিল পেশ না করে অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, আইনগত এবং সাংবিধানিক বিষয় পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেবে।

এদিকে নবান্নেও আজ দিনভর ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পঞ্চায়েত দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। বাজেটে ঘোষিত উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের অগ্রগতি, শিল্প বিনিয়োগ, সরকারি চাকরি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের দিনটি শুধুমাত্র একটি বিল পাস হওয়ার দিন নয়; বরং আগামী কয়েক বছরের প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণের সূচনা।

🕘 ২৯ জুন ২০২৬ : সারাদিনের ঘটনাপঞ্জি

সময়গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
সকাল ৯:০০বিধানসভার অধিবেশন শুরু
সকাল ১০:১৫Public Safety Bill নিয়ে আলোচনা শুরু
দুপুর ১২:৪৫বিরোধীদের সংশোধনী প্রস্তাব
দুপুর ১:৩০Public Safety Bill পাস
দুপুর ২:১৫UCC কমিটি গঠনের ঘোষণা
বিকেল ৩:৩০নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক
বিকেল ৫:০০শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে পর্যালোচনা
সন্ধ্যা ৬:৩০মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক
রাত ৮:০০বিভিন্ন দপ্তরের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা

🏛️ বিধানসভায় দিনভর উত্তপ্ত বিতর্ক

আজ সকাল থেকেই বিধানসভার পরিবেশ ছিল উত্তপ্ত।

স্পিকার অধিবেশন শুরু করার পর প্রথমেই Public Safety Bill নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বর্তমান সময়ে সংগঠিত অপরাধ, সাইবার জালিয়াতি, আন্তঃজেলা অপরাধচক্র এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ মোকাবিলার জন্য নতুন আইনি কাঠামো প্রয়োজন।

বিরোধী দলগুলি পাল্টা দাবি করে—

  • আইনের কিছু ধারা অত্যন্ত কঠোর।
  • প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।
  • বিলটি আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা উচিত।
  • সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো উচিত ছিল।

বিরোধীদের একাধিক সংশোধনী প্রস্তাব ভোটাভুটিতে নাকচ হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনার পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাস হয়।

আজকের অধিবেশন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে এবং বেশ কয়েকবার হট্টগোলের কারণে কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিতও করতে হয়।

⚖️ Public Safety Bill কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী এই আইনের উদ্দেশ্য—

  • সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন
  • আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণ
  • সাইবার অপরাধ মোকাবিলা
  • চাঁদাবাজি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা
  • আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা

বিলের প্রধান লক্ষ্য

বিষয়উদ্দেশ্য
সংঘবদ্ধ অপরাধদ্রুত দমন
সাইবার অপরাধবিশেষ তদন্ত
চাঁদাবাজিকঠোর ব্যবস্থা
জননিরাপত্তাপুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতা
অপরাধ প্রতিরোধদ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা

সরকারের দাবি, এই আইন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং অপরাধ দমনে প্রশাসনকে আরও কার্যকর করবে।

তবে বিরোধীদের বক্তব্য, আইনটির প্রয়োগে পর্যাপ্ত নজরদারি এবং বিচারিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

⚖️ UCC নিয়ে আজকের সবচেয়ে বড় ঘোষণা

গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে ধারণা ছিল আজ হয়তো UCC বিল সরাসরি বিধানসভায় পেশ হবে।

কিন্তু সরকার ভিন্ন পথ বেছে নেয়।

আজ মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে UCC বিষয়ে আরও বিস্তৃত পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই

সরকার জানিয়েছে—

  • বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের মতামত নেওয়া হবে।
  • আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।
  • সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হবে।
  • অন্যান্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হবে।
  • এরপর চূড়ান্ত রিপোর্ট মন্ত্রিসভায় জমা দেওয়া হবে।

UCC কমিটির কাজ

বিষয়বর্তমান অবস্থা
কমিটি গঠনসম্পন্ন
চেয়ারপার্সনবিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই
জনমত সংগ্রহশীঘ্রই শুরু
আইনি পর্যালোচনাচলবে
চূড়ান্ত রিপোর্টসরকারের কাছে জমা হবে

সরকারের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে আইন না এনে সর্বস্তরের মতামত নিয়ে এগোনোই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি।


🏛️ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর ম্যারাথন বৈঠক

বিধানসভার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বিকেলে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।

উপস্থিত ছিলেন—

  • মুখ্যসচিব
  • অর্থসচিব
  • স্বরাষ্ট্রসচিব
  • শিল্পসচিব
  • কৃষি সচিব
  • স্বাস্থ্য সচিব
  • শিক্ষা সচিব
  • পঞ্চায়েত সচিব

বৈঠকে বাজেটে ঘোষিত প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন—

  • জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে হবে।
  • প্রতিটি জেলা প্রশাসককে মাসিক অগ্রগতি রিপোর্ট দিতে হবে।
  • সরকারি পরিষেবার ডিজিটাল মনিটরিং আরও শক্তিশালী করতে হবে।
  • শিল্প বিনিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তিতে অযথা দেরি করা যাবে না।
  • কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিটি দপ্তরকে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে কাজ করতে হবে।

🏭 শিল্প ও বিনিয়োগে সরকারের নতুন রোডম্যাপ

বাজেট ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যেই শিল্প দপ্তরকে বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। আজকের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধুমাত্র নীতিগত ঘোষণা নয়, বিনিয়োগকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

শিল্প দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। উৎপাদন শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, গুদামজাতকরণ (Warehousing), লজিস্টিক্স এবং নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়াও প্রতিটি জেলার জন্য শিল্প সম্ভাবনার পৃথক তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন জেলায় কোন ধরনের শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব, তার একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

শিল্প খাতে সরকারের অগ্রাধিকার

খাতপরিকল্পনা
উৎপাদন শিল্পনতুন কারখানা স্থাপন
MSMEসহজ ঋণ ও ভর্তুকি
তথ্যপ্রযুক্তিAI ও সফটওয়্যার পার্ক
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকৃষিভিত্তিক শিল্প
পর্যটনউত্তরবঙ্গ ও সমুদ্র উপকূল উন্নয়ন
লজিস্টিক্সআধুনিক গুদাম ও পরিবহন ব্যবস্থা

সরকারের মতে, আগামী পাঁচ বছরে শিল্পায়নই হবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।

💼 কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন নির্দেশ

সরকারি চাকরি নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই আজ কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—

  • প্রতিটি দপ্তর আগামী সপ্তাহের মধ্যে শূন্যপদের হালনাগাদ তালিকা জমা দেবে।
  • নিয়োগের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি আরও শক্তিশালী করা হবে।
  • নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
  • দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় বাড়ানো হবে।

সম্ভাব্য নিয়োগের ক্ষেত্র

বিভাগসম্ভাব্য অগ্রাধিকার
স্বাস্থ্যচিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান
শিক্ষাশিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী
পুলিশকনস্টেবল ও সাব-ইন্সপেক্টর
পঞ্চায়েতপ্রশাসনিক কর্মী
তথ্যপ্রযুক্তিপ্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ
দমকলনতুন নিয়োগ

🌾 কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন

বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষি দপ্তর আজ জেলার কৃষি আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে।

আলোচনায় উঠে আসে—

  • আমন ধানের চাষের প্রস্তুতি
  • উন্নত বীজ সরবরাহ
  • কৃষিঋণ বিতরণ
  • সার মজুত
  • জলাবদ্ধতা মোকাবিলা
  • কৃষি বিমা সচেতনতা

মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, কৃষকদের যেন কোনও অবস্থাতেই বীজ বা সার সংকটে পড়তে না হয়।

কৃষি পরিস্থিতির সারাংশ

বিষয়বর্তমান অবস্থা
ধান বীজপর্যাপ্ত
সারস্বাভাবিক সরবরাহ
কৃষিঋণদ্রুত অনুমোদন
সেচপর্যবেক্ষণ চলছে
কৃষি বিমাপ্রচার শুরু

🏥 স্বাস্থ্য খাতে প্রস্তুতি

স্বাস্থ্য দপ্তর বাজেটে ঘোষিত বরাদ্দ অনুযায়ী জেলা হাসপাতালগুলির উন্নয়নের জন্য প্রকল্পভিত্তিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে।

আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়—

  • নতুন ICU নির্মাণ
  • আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম
  • চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ
  • টেলিমেডিসিন পরিষেবা
  • অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সম্প্রসারণ

স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

🎙️ বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

Public Safety Bill পাস হওয়ার পর বিরোধী দলগুলি যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে।

তাদের দাবি—

  • আইনের কিছু ধারা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
  • UCC কমিটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হতে হবে।
  • বাজেটে ঘোষিত চাকরি ও সামাজিক প্রকল্পের বাস্তবায়নের সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে।
  • বিধানসভায় আরও দীর্ঘ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন ছিল।

সরকার পাল্টা জানায়, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে।

👥 সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

আজ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল Public Safety Bill এবং UCC কমিটি।

চাকরিপ্রার্থীরা সরকারি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।

কৃষকরা বর্ষা সহায়তা দ্রুত মাঠে পৌঁছানোর আশা করছেন।

ব্যবসায়ীরা শিল্প নীতির দ্রুত বাস্তবায়ন চান।

সরকারি কর্মচারীদের নজর এখন বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন সুবিধার বাস্তব প্রয়োগের দিকে।

📊 আজকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অগ্রগতি

ক্ষেত্রঅগ্রগতি
Public Safety Billবিধানসভায় পাস
UCCবিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন
বাজেটবাস্তবায়ন তদারকি শুরু
শিল্পবিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা
কর্মসংস্থানশূন্যপদ সংগ্রহ চলছে
কৃষিবর্ষা পরিকল্পনা সক্রিয়
স্বাস্থ্যজেলা প্রকল্প চূড়ান্ত

📈 গতকালের তুলনায় পরিবর্তন

বিষয়২৮ জুন২৯ জুন
UCCপ্রস্তুতিকমিটি গঠন
Public Safety Billআলোচনাপাস
বাজেটবাস্তবায়ন পরিকল্পনামাঠপর্যায়ে তদারকি
শিল্পবিনিয়োগ বৈঠকজেলা পরিকল্পনা
কর্মসংস্থানপ্রস্তুতিশূন্যপদ সংগ্রহ শুরু

⚖️ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

২৯ জুনের ঘটনাবলি থেকে স্পষ্ট, সরকার উন্নয়নমূলক বাজেট বাস্তবায়নের পাশাপাশি আইন ও প্রশাসনিক সংস্কারেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

Public Safety Bill পাসের মাধ্যমে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। অন্যদিকে UCC-এর মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সরাসরি আইন না এনে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত তুলনামূলকভাবে পরামর্শভিত্তিক ও ধাপে ধাপে এগোনোর ইঙ্গিত দেয়।

আগামী কয়েক সপ্তাহে নজর থাকবে তিনটি বিষয়ে—বাজেটের বাস্তবায়ন কত দ্রুত এগোয়, সরকারি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশ হয় এবং UCC কমিটি কী ধরনের সুপারিশ দেয়।

❓ FAQ

১. আজকের সবচেয়ে বড় ঘটনা কী?
Public Safety Bill বিধানসভায় পাস এবং UCC নিয়ে বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন।

২. UCC বিল কি আজ পাস হয়েছে?
না। আজ বিল পাস হয়নি। সরকার প্রথমে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে, যা সুপারিশ জমা দেবে।

৩. নবান্নে কী নিয়ে বৈঠক হয়েছে?
বাজেট বাস্তবায়ন, শিল্প বিনিয়োগ, সরকারি নিয়োগ, কৃষি, স্বাস্থ্য ও জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে।

৪. শিল্প খাতে কী নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে?
জেলাভিত্তিক শিল্প সম্ভাবনার তালিকা তৈরির কাজ শুরু এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ।

৫. কর্মসংস্থান নিয়ে কী অগ্রগতি হয়েছে?
প্রতিটি দপ্তরকে শূন্যপদের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

✍️ সম্পাদকের কথা

২৯ জুন ২০২৬ ছিল পরিবর্তনের রাজনীতির একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। আজকের সিদ্ধান্তগুলি দেখিয়ে দিল, সরকার একইসঙ্গে দুটি পথে এগোতে চাইছে—একদিকে উন্নয়নমূলক বাজেট বাস্তবায়ন, অন্যদিকে প্রশাসনিক ও আইনগত সংস্কার।

Public Safety Bill পাসের মাধ্যমে সরকার আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আবার UCC নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে সরাসরি আইন না এনে মতামতভিত্তিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে।

এখন রাজ্যের মানুষের দৃষ্টি থাকবে ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়নের দিকে। শিল্পে বিনিয়োগ, সরকারি চাকরি, কৃষি সহায়তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায়, সেটিই আগামী দিনের রাজনৈতিক মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হবে।

📎 তথ্যসূত্র

  • The Indian Express – UCC পর্যালোচনার জন্য বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই কমিটি গঠন।
  • The New Indian Express – West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026 পাস।
  • News On AIR – Public Safety Bill ও Public Order সংশোধনী বিলের প্রতিবেদন।
  • The Economic Times – বাজেট বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক পর্যালোচনা।
  • PTI – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার কার্যক্রম ও সরকারি সিদ্ধান্ত।

Related Posts

পরিবর্তনের দিনলিপি — ৫৫তম দিন | ২ জুলাই ২০২৬

মন্ত্রিসভার বৈঠকে UCC কমিটির অনুমোদন, আগস্টে বিল আনার প্রস্তুতি, শিল্প বিনিয়োগে নতুন গতি, প্রশাসনিক সংস্কারে জোর ⚡ আজকের প্রধান খবর ২ জুলাই ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্য ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত…

Continue reading
পরিবর্তনের দিনলিপি — ৫৪তম দিন | ১ জুলাই ২০২৬

জুলাইয়ের প্রথম দিনেই প্রশাসনের গতি বাড়ানোর বার্তা, UCC কমিটির প্রাথমিক কাজ শুরু, ₹২০,০০০ কোটির শিল্প বিনিয়োগে জোর, বাজেট বাস্তবায়নে নতুন কর্মপরিকল্পনা ⚡ আজকের প্রধান খবর জুলাই মাসের প্রথম দিন থেকেই…

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *