পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে চলেছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটানোর পর শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই দুর্গন্ধ পাচ্ছি।” তৃণমূল আমলে রাজ্যে কতটা গভীরে দুর্নীতির শিকড় প্রোথিত, এই মন্তব্যে তিনি সেটাই স্পষ্ট করলেন। Wikipedia

কে এই শুভেন্দু অধিকারী?

শুভেন্দু অধিকারী ২০২৬ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। ৯ মে ২০২৬ তারিখে রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর শপথ গ্রহণের সময় পাঁচজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীও শপথ নেন — দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক ও ক্ষুদিরাম টুডু। WikipediaNews on Air

দুর্নীতির দুর্গন্ধ — কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

শিয়ালদহে আয়োজিত রোজগার মেলার অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সাম্প্রতিক নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোই নয়, পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। Dainik Statesman

মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পুরনিয়োগে অনিয়ম, আদালতের হস্তক্ষেপ এবং প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের মতো ঘটনা রাজ্যের মানুষের মনে গভীর হতাশা তৈরি করেছে। Dainik Statesman

“যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই দুর্গন্ধ পাচ্ছি। তৃণমূলের আমলে এই রাজ্যে দুর্নীতি এতটাই গভীরে ঢুকে গেছে।” — মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

এবার কী পরিবর্তন আসছে?

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধানসভার আগামী অধিবেশনে নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন আইন আনার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষত লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের ওএমআরের কার্বন কপি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় থাকে। Dainik Statesman

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া বার্তা দেন। আরজি কর কাণ্ডে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা করে তিনি বলেন, নারী সমাজের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার কোনোভাবেই এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে আপস করবে না। Aamarsakal

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘ ১৫ বছর তৃণমূল আমলে নিয়োগ দুর্নীতি, কাটমানি কালচার ও দলীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে অনেকে আশার আলো দেখছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে।

সামনে কী?

বিজেপি ২০৭ আসন নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসেছে। এই শক্তিশালী জনাদেশ নিয়ে শুভেন্দু সরকার যদি সত্যিই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। নইলে “দুর্গন্ধ” দূর করার প্রতিশ্রুতি শুধু কথার মধ্যেই থেকে যাবে।