দশ মাসে ১৪ বার আপত্তি! নির্বাচন কমিশনের অন্দরের নথি প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড়

দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে আজ নতুন করে শুরু হয়েছে জোরদার আলোচনা। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে দুই নির্বাচন কমিশনার গত প্রায় ১০ মাসে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিতভাবে আপত্তি বা পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত করেছিলেন।

বুধবার প্রকাশিত The Indian Express-এর একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই দাবি সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনার সুকবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর নথিভুক্ত পর্যবেক্ষণ ও আপত্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR, ভোটার সংক্রান্ত ফর্ম, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

তবে এই প্রতিবেদনের পরেই নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ আলোচনার সময় বিভিন্ন মত, পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের দাবি।

অর্থাৎ, আজকের ঘটনায় দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি—একদিকে একটি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তুলে ধরা অভ্যন্তরীণ নথির দাবি, অন্যদিকে সেই দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা।

কী নিয়ে শুরু হল আজকের বিতর্ক?

The Indian Express-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনের মূল দাবি হল, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য বিভিন্ন বিষয়ে একাধিকবার লিখিত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পর্যবেক্ষণগুলির মধ্যে কয়েকটি ছিল কমিশনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজ, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা এবং SIR-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট অন্তত ১৪টি ক্ষেত্রে সুকবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী নিজেদের মতামত বা আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। এর মধ্যে একই দিনে একাধিক আপত্তি নথিভুক্ত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। “আপত্তি” শব্দটির অর্থ সরাসরি “চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট” বা “কমিশনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি”—এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।

নির্বাচন কমিশনের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট সদস্য বা আধিকারিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন, পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ বা প্রযুক্তিগত সংশোধনের প্রস্তাব দিতে পারেন।

সেই কারণেই আজকের বিতর্কের কেন্দ্রে আসলে রয়েছে—নথিতে যে পর্যবেক্ষণগুলি ছিল, সেগুলি কি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মতপার্থক্য ছিল, নাকি সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ ছিল?

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য কী?

Indian Express-এর রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরেই নির্বাচন কমিশন বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ আলোচনার সময় বিভিন্ন মতামত ও পর্যবেক্ষণ দেওয়া স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। কমিশনের দাবি, গত এক বছরে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবেই নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, শুধু তিন নির্বাচন কমিশনারই নন, কমিশনের আধিকারিকরাও নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নতির জন্য নিজেদের পরামর্শ দেওয়ার অধিকার রাখেন। অর্থাৎ, কোনো পর্যায়ে প্রশ্ন তোলা বা কোনো প্রক্রিয়া নিয়ে পর্যবেক্ষণ দেওয়া মানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মতভেদ হয়েছে—এমন ব্যাখ্যা কমিশন গ্রহণ করছে না।

এটি আজকের প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কারণ একটি সংবাদ প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ নথির নির্দিষ্ট অংশ সামনে আসলেও, সেই নথিগুলির প্রশাসনিক অর্থ কী—তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ব্যাখ্যাও রয়েছে।

বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR কী?

এই বিতর্কের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে Special Intensive Revision বা SIR।

সহজ ভাষায়, ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন, যাচাই ও আপডেট করার কাজ করে। SIR তারই একটি বিশেষ ধরনের প্রক্রিয়া।

The Indian Express-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে এই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ভোটার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে দুই কমিশনারের পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত হয়েছিল।

এখানেই বিষয়টি সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বাইরে জনসাধারণের আগ্রহের কেন্দ্রে এসেছে। কারণ ভোটার তালিকা সরাসরি দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।

তবে SIR-এর উদ্দেশ্য নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব অবস্থান হল—ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল ও সঠিক রাখাই এই ধরনের সংশোধন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।

১৪টি আপত্তির বিষয়গুলি কী ছিল?

প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে বিষয়গুলির কথা সামনে এসেছে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে—

  • ভোটার তালিকা সংশোধনের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
  • ভোটার নাম অন্তর্ভুক্তি ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া
  • নতুন ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত Form 6
  • ভোটার তথ্যের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা
  • নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডার ও সফটওয়্যার ব্যবস্থা
  • SIR-এর বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশাসনিক নির্দেশ
  • কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের প্রশ্ন
  • ভোটার তালিকা সংক্রান্ত তথ্যের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ

তবে এই বিষয়গুলিকে “চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কমিশনের ভাঙন” হিসেবে দেখানো এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ হিসেবে দেখা—দুটি এক বিষয় নয়।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে বলেছে, রিপোর্টে নির্দিষ্ট কিছু অভ্যন্তরীণ নোটকে সামনে আনা হলেও কমিশনের বৃহত্তর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার পুরো ছবিটি সেখানে প্রতিফলিত হয়নি।

একই দিনে নির্বাচন কমিশনের পাল্টা ব্যাখ্যা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আজকের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যকে উপেক্ষা করলে পুরো বিষয়টির একটি অসম্পূর্ণ ছবি তৈরি হতে পারে।

কারণ Indian Express-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যে নথিগুলি তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলি নিয়ে কমিশনের ব্যাখ্যা হল—সেগুলি ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে দেওয়া পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ।

কমিশনের দাবি, শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে।

এমনকি কমিশন জানিয়েছে, গত এক বছরে প্রায় ৪০টি নতুন উদ্যোগ এবং একাধিক নির্বাচনী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এগুলি পূর্ণ কমিশনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই হয়েছে।

ফলে আজকের পরিস্থিতিকে আপাতত এভাবে বলা যায়—একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কমিশনের অভ্যন্তরীণ নথিতে একাধিক আপত্তির কথা সামনে এসেছে, আর নির্বাচন কমিশন বলছে সেই পর্যবেক্ষণগুলি ছিল স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ deliberation-এর অংশ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত।

“১৪ আপত্তি” মানেই কি নির্বাচন কমিশনে ভাঙন?

এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সরাসরি বলা যায় না যে ১৪টি নথিভুক্ত পর্যবেক্ষণ মানেই নির্বাচন কমিশনে সাংগঠনিক ভাঙন তৈরি হয়েছে।

তিন সদস্যের একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, প্রশ্ন, পরামর্শ এবং প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ থাকা অস্বাভাবিক নয়।

The Indian Express-এর পরবর্তী ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত না হলে আইন অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ, কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতের পার্থক্য থাকা এবং কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ—এই দুই প্রক্রিয়াকে আলাদা করে দেখা দরকার।

তাই আজকের দিনে “কমিশন ভেঙে পড়েছে” বা “কমিশনের সিদ্ধান্ত বেআইনি হয়ে গেছে”—এই ধরনের চূড়ান্ত মন্তব্য করার মতো তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই।

Form 6 নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠছে?

নির্বাচন কমিশনের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় Form 6 একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। নতুন ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।

Indian Express-এর প্রতিবেদনে Form 6-এর অনলাইন সংস্করণে কিছু পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে আবেদনকারীর বাবা-মা সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের বিষয়টি প্রতিবেদনে আলোচিত হয়েছে।

এই পরিবর্তন কীভাবে এল, কোন পর্যায়ে এল এবং তার প্রশাসনিক অনুমোদন কীভাবে হয়েছিল—এসব নিয়ে প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

তবে এই মুহূর্তে এটিকে সরাসরি বেআইনি পদক্ষেপ হিসেবে ঘোষণা করা ঠিক হবে না। কারণ বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, নথির পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যাখ্যা—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা

বর্তমান সময়ে ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র কাগজের নথির ওপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন পর্যায়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ডেটাবেস এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়।

Indian Express-এর অনুসন্ধানে কমিশনের IT infrastructure এবং ECINET-এর মতো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার বিষয়েও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

এই অংশটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিও মনে রাখা দরকার যে কোনো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় সংশোধনের প্রস্তাব বা প্রশাসনিক প্রশ্ন ওঠা নিজেই অনিয়মের প্রমাণ নয়।

বরং ডিজিটাল ব্যবস্থার নিরাপত্তা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং মাঠপর্যায়ে তার কার্যকারিতা নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা হওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থারই অংশ হতে পারে।

SIR নিয়ে এত আলোচনা কেন?

দেশের ভোটার তালিকা নিয়ে SIR-এর মতো বড় কর্মসূচি পরিচালনা করা একটি বিশাল প্রশাসনিক কাজ।

ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য বা মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায় সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণেই নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে জনমানসে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসের প্রশ্ন থাকে।

The Indian Express-এর রিপোর্ট সেই কারণেই আজ এতটা আলোচনায় এসেছে। তবে নির্বাচন কমিশন পাল্টা বলেছে, অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণগুলিকে আলাদা করে দেখলে পুরো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ছবি পাওয়া যায় না।

সরকারের ভূমিকা কোথায়?

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।

ভোটার তালিকা, নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

আজকের প্রকাশিত রিপোর্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য সামনে আসতে পারে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যকে কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখা যাবে না।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হল—

একদিকে Indian Express-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক জবাব।

দুই দিকই পাঠকের সামনে রাখা জরুরি।

আজকের ঘটনার আসল তাৎপর্য কোথায়?

আজকের ঘটনা শুধুমাত্র “১৪টি আপত্তি” নিয়ে নয়।

এর বড় বিষয় হল, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে এবং তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন নিজস্ব ব্যাখ্যা দিয়েছে।

অর্থাৎ এখন সামনে দুটি প্রশ্ন—

প্রথমত, প্রতিবেদনে উদ্ধৃত নথিগুলির প্রকৃত প্রশাসনিক অর্থ কী?

দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই পর্যবেক্ষণগুলি কীভাবে পরবর্তী সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর আরও নথি, কমিশনের পরবর্তী ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে।

এখন কী হতে পারে?

আজ, ২৩ সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না।

কারণ ভোটার তালিকা সংশোধন, SIR, Form 6, ডিজিটাল ভোটার ব্যবস্থাপনা এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া—সবকটি বিষয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী দিনে কমিশন যদি আরও ব্যাখ্যা দেয়, সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করে অথবা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আনে, তাহলে আজকের প্রতিবেদনের দাবিগুলির প্রেক্ষাপট আরও পরিষ্কার হবে।

ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো একটি প্রতিবেদনের দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার বদলে সংশ্লিষ্ট নথি এবং নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য—দুই দিকই দেখা দরকার।

শেষ কথা

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর এই ঘটনা ভারতীয় নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন একটি বড় আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

The Indian Express-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে লিখিত পর্যবেক্ষণ বা আপত্তি জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ ও মতামত সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং গত এক বছরে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।

তাই আজকের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দাবি বনাম সরকারি ব্যাখ্যা—কোনো পক্ষের বক্তব্যকে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া নয়।

নির্বাচন কমিশন দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার উত্তরও নথি ও তথ্যের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।

এই মুহূর্তে নজর থাকবে—পরবর্তী দিনগুলিতে কমিশনের পক্ষ থেকে আরও কী ব্যাখ্যা আসে এবং এই নথিভুক্ত পর্যবেক্ষণগুলির বাস্তব প্রশাসনিক প্রভাব কী ছিল, তা কতটা স্পষ্ট হয়।

জুগের বার্তা এই ঘটনাপ্রবাহের পরবর্তী আপডেটও তথ্য ও নথির ভিত্তিতে তুলে ধরবে।

Related Posts

তিন নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের পর SIR নিয়ে বড় ব্যাখ্যা, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট

গত কয়েকদিন ধরে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, শনিবার তার মধ্যেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ঘটল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং…

Continue reading
তিন নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকে বড় বার্তা, SIR নিয়ে সব জল্পনার জবাব দিল নির্বাচন কমিশন

গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে যে বিতর্ক, জল্পনা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছিল, শনিবার তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সামনে এল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন…

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *